ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় আমনের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রায় তৈরি হয়েছে শঙ্কা

author
Reporter

প্রকাশিত : Feb 14, 2026 ইং 134 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা না হওয়ার পর এবার আমন মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এ আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এ মৌসুমে সিদ্ধ চালের সরকারি মূল্য ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে এ চালের মূল্য সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা। তাই প্রতি কেজিতে সাত-আট টাকা লোকসান দিয়ে খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত মিল মালিকরা চাল সরবরাহ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এদিকে যারা খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে ধান-চাল সরবরাহ করেনি তাদের তালিকা করে জামানত বাজেয়াপ্তসহ নানা নির্দেশনা দিয়ে গত ৩০ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা খাদ্য বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে কুমিল্লা জেলাসহ দেশব্যাপী রোপা আমন ধানের সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ বছর কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলার (হোমনা, মেঘনা, তিতাস, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ব্যতীত) কৃষকদের নিকট থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে মোট ৩ হাজার ৪০৩ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সিদ্ধ চালের সরকারি মূল্য বোরো মৌসুমের চেয়ে এক টাকা বৃদ্ধি করে চলতি আমন মৌসুমে ৩৭ টাকা এবং আতপ চালের মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এদিকে শনিবার থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান, চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে আতপ চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে, কিন্তু তা শুরু হয়নি। এর আগে বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে মিল মালিকদের প্রতি কেজি সিদ্ধ ও আতপ চালের মূল্য যথাক্রমে ৩৬ টাকা ও ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়ায় কুমিল্লায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে চালের মূল্য বেশি হওয়ায় চুক্তি করেও চাল দেয়নি খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অধিকাংশ মিল মালিক। 

জেলা খাদ্য বিভাগ ও কয়েকজন মিল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার ৭৫টি মিল সিদ্ধ চাল এবং ১৫টি আতপ চালের মিল জেলা খাদ্য বিভাগে চাল সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত আছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গত বোরো মৌসুমে এ জেলায় ২৬ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চালের মধ্যে সংগ্রহ হয়নি ১০ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন, আতপ চাল ১০ হাজার ১২১ মেট্রিক টনের মধ্যে সংগ্রহ হয়নি ২ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন এবং ২৭ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন।

 
সূত্র- ইত্তেফাক


নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS