নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা নগরীর এক মাদ্রাসায় ১১ বছরের ছাত্রকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তানভীর আহাম্মেদ নামে এক শিক্ষকের (হুজুর) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিক্ষকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগি শিশু ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ওই মাদ্রাসার বড় হুজুরের কাছে বিচার নিয়ে গেলে বিষয়টি মা-বাবাসহ কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার জন্য বলা হয়। কাউকে জানালে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে মারার ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন ওই বড় হুজুর ফারুক হোসাইন। কিন্তু কিন্তু তারপরও ফারুক ওই শিশুকে কারেন্টের পেচানো তার দিয়ে দুই পায়েল তালুতে আঘাত করে আহত করে। বর্তমানে ওই বড় হুজুর পালাতক রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকায় অবস্থিত দারুন নাজাত নামে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায়। এই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদি হয়ে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় ধর্ষক তানভীর আহম্মেদ (২৪) ও মাদ্রাসার বড় হুজুর ফারুক হোসাইনকে (৪৮) আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
তানভীর আহাম্মেদ চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের মো. ফারুক আহাম্মেদের ছেলে এবং ফারুক হোসাইন একই জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব হাটিলা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তারা দুইজনই ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
শিশুটির বাবা মামলায় উল্লেখ করেন, গত ৫/৬ মাস পূর্বে তার ১১ বছরের ছেলেকে দারুন নাজাত নামে ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। ধর্ষক তানভীর আহাম্মেদ তার ছেলের কোরআন শরীফ ছবক নিতেন। গত (১৯ নভেম্বর) তার স্ত্রীকে নিয়ে মাদ্রসায় ছেলেকে দেখতে আসলে সে ভয়ে কাতর অবস্থায় দেখেন এবং অসুস্থ মনে হয়। অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ১১ বছরের শিশুটি জানায় মাদ্রসার শিক্ষক তানভীর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ওসি আনোয়াল হক জানান, মাদ্রসায় শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত হুজুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামী পালাতক রয়েছে।