ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগ!

author
Reporter

প্রকাশিত : Apr 22, 2026 ইং 171 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি ৫ বছরে অতিক্রম করলেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও গঠন করা হয়েনি। এখন পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়েই চলছে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড। এই কমিটির অন্যতম শাখা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের একই দশা। কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা সরকারি কলেজ ও নগরীর এক নম্বর ওয়ার্ডে। কুমিল্লা পলিটেকনিকেল কলেজ, সিটি কলেজ, অজিত গুহ কলেজ এবং ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ। সম্মেলন করে আজও কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি ৪,৯,১২ এবং ২১  নম্বর ওয়ার্ডে। মেয়াদোত্তীর্ণ মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও  যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৭ সদস্যের মধ্যে চারজনই বিবাহিত। এছাড়া শাখা ও ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ সদস্যদের অনেকের ছাত্রত্ব নেই, বিবাহিত এবং প্রবাসী। 

এদিকে ৫ বছরেও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় এখানকার নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। তরুণ নেতৃত্বের নানামুখী চাপে রয়েছে ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ নেতাকর্মীরা। ভেঙ্গে পড়েছে ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ড। এর ফলে সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংগঠনটি, এমনটাই মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের নেতারা। তবে দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার ঘটনাকে দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তারা। নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন যত দ্রুত আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি হবে, দলের জন্য ততই মঙ্গলজনক। 

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের ৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে ২২ জুলাই আব্দুল আজিজ সিহানুকে আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহবায়ক নাইমুল হক হিমেল, গোলাম সারোয়ার কাওসার, সাইফুল আলম রবিন, মোঃ ফয়সাল হোসেন, নুর মোহাম্মদ সোহেল ও সাকিব আল হাসানসহ ৭জনকে দিয়ে তিন মাস মেয়াদী একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। ওই তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি ৫ বছর ৩ মাসে গড়ালেও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জানান, তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে গেছে। কার্যক্রমেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তারুণ্য নির্ভর দল ছাত্রলীগ করার মতো কাউকে খোঁজে পাওয়া যাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরের অন্যতম শাখা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক  কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। ৫ বছর তিনমাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ২১ সদস্যের এই কমিটির সদস্য সচিব বিয়ে করে বর্তমানে প্রবাসে রয়েছে। অনেকের ছাত্রত্ব নেই। বিয়ে করেছেন, চাকরী করছেন এবং বিদেশে রয়েছেন। অন্যদিকে কুমিল্লা সরকারি কলেজের কমিটি নেই। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাবেক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরকারি কলেজকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন। 

এছাড়া কুমিল্লা পলিটেকনিকেল কলেজ, সিটি কলেজ, অজিত গুহ কলেজ এবং ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ। মেয়াদোত্তীর্ণ এই ২৭টি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটির মধ্যে এক নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি দেওয়া হলেও অনিয়মের কারণে ভেঙ্গে দেওয়া হয়, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতিকে অব্যাহতি, সাত নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি চাকুরিজীবী, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পদত্যাগ করে বিয়ে করেছেন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক ও যগ্ম আহ্বায়ক দুইজনই বিবাহিত। ২৩, ২৪, ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বিবাহিত। এছাড়া ৪,৯,১২ এবং ২১  নম্বর ওয়ার্ডে আজ পর্যন্ত সম্মেলন করে কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই মহানগর কমিটির ব্যর্থতা মনে করছেন নেতাকর্মীরা। 

কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য দেবব্রত চক্রবর্তী (দ্বীপ) জানান, নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে সময় মত কমিটি না দেওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে কুমিল্লা মহানগর, ভিক্টোরিয়া কলেজসহ ২৭টি ওয়ার্ড ছাত্রলীগ। অনেক কমিটির আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যদের ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেকেই বিবাহ করে কর্মজীবনে পা রেখেছেন। এদিকে তরুণ নেতৃত্বের নানামুখী চাপে রয়েছে ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা। কার্যক্রমেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তারুণ্য নির্ভর দল ছাত্রলীগ করার মতো কাউকে খোঁজে পাওয়া যাবে না।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাজী সায়েম জানান, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে সময়মত কমিটিগুলো হলে নতুন নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে মেধাবী ছাত্রনেতারা উঠে আসতে পারে। সকল ছাত্রনেতাদের একটা আশা থাকে বড় বড় স্থানে নেতৃত্ব দেওয়া জন। কিন্তু তিন মাস মেয়াদী একটি আহ্বায়ক কমিটি যদি ৫/৬ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থাকে তাহলে কিভাবে নেত্বত্বে মেধাবীরা উঠে আসবে। আমরা চাই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বা নতুন কমিটি দেওয়া হোক। 

কমিটির সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ সিহানুক বলেন, আমিও চাই বর্তমান আহ্বায়ক ভেঙে নতুন কমিটি দেওয়া হোক। নতুন কমিটির মাধ্যমে তরুণরা উঠে আসার সুযোগ পাবে। এদিকে আমারও বয়স হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এই কমিটি নেতৃত্ব দিয়ে আসছি।




নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS