ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

আহ্বায়ক কমিটিতে পদ পেতে কুমিল্লায় থেকে ঢাকায় নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

author
Reporter

প্রকাশিত : Apr 1, 2026 ইং 122 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এক দশকেও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির কোনো কমিটি হয়নি। এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এ অবস্থায় নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে পদ পেতে ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে বিবদমান পক্ষগুলো কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে কমিটিতে থাকার জন্য নাম জমা দিয়েছেন।
  • শিগগিরই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির ছোট আকারের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা।
  •  দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় বিএনপির দুটি ধারা রয়েছে। এক পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল হক। আরেক পক্ষে রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ আমিন উর রশিদ। জেলার এই দুই নেতাই বর্তমানে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হতে চান। 

২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে সভাপতি পদে বেগম রাবেয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে আমিন উর রশিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোস্তাক মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে শীর্ষ তিনটি পদে মেয়র মো. মনিরুল হক ও তাঁর অনুসারী কেউ স্থান পাননি। এতে আমিন উর রশিদপন্থীরাই স্থান পেয়েছেন। এরপর থেকে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা কর্মসূচি পালন করছে। ওই সম্মেলনের ৫ দিন পর ২০০৯ সালের ২৯ নভেম্বর ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এদিকে ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর গত এক দশকেও মহানগর বিএনপির কোনো কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই দফা মো. মনিরুল হক মেয়র পদে জয়ী হন। এদিকে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট সকাল নয়টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সভা হয়। ওই সভায় কমিটি গঠন করার দাবি জানান সিটি মেয়র। গত সপ্তাহে মেয়র মনিরুল হক নিজেকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্যসচিব করে ৬১ সদস্যের একটি প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটি জমা দেন। এতে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাবেক সাংসদ আমিন উর রশিদও নিজেকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করার জন্য কেন্দ্রে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগর কমিটিতে আহ্বায়ক পদে আমিন উর রশিদ ও সদস্যসচিব পদে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আমিরুজ্জামানের নাম শোনা যাচ্ছে। এই কমিটির আহ্বায়ক পদে যেতে চান মেয়র মনিরুল হক। ইতিমধ্যে তিনি আহ্বায়ক পদে থাকার জন্য কেন্দ্রে নাম জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদে প্রবীণ নেতা বর্তমান কমিটির সভাপতি রাবেয়া চৌধুরী ও সদস্যসচিব পদে বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। এই কমিটির আহ্বায়ক পদে সাবেক সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছাত্রদল নেতারাই আহ্বায়ক কমিটিতে বেশির ভাগ পদে থাকবেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. মনিরুল হক বলেন, ‘কুমিল্লা মহানগর বিএনপির কোনো কমিটি নেই। ১০ বছর হলো কুমিল্লা মহানগর হয়েছে, এখনো কমিটি হয়নি। কমিটিতে পদ পেতে আমি ৬১ জনের নাম দিয়েছি।’

এ বিষয়ে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘কমিটি গঠনের এখতিয়ার কেন্দ্রের। কেন্দ্র কমিটি দেবে।’

জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লায় বিএনপির কমিটি গঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আবুল খায়ের ভূঁইয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কুমিল্লা মহানগর ও জেলার জন্য সীমিত আকারের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে। ওই কমিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করবে। এরপর সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা আছে এবং সাবেক ছাত্রদল নেতারা দলের কমিটিতে স্থান পাবেন। বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা ও নবীনদের সমন্বয় করে কমিটি দেওয়া হবে। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্র- প্রথম আলো 




নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS