
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০৭ সালের ৬ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শ্রীয়াং বাজারে ১ হাজার ৪০০ টাকা ডাকাতি করার জন্য তিন ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। ১৭ (সতের) বছর পর এই হত্যাকাণ্ডের দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিবার (২৮ আগস্ট) রাতে র্যাব-১১ সিপিসি-২ জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে আসামীকে গ্রেফতার করে। সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, র্যাব-১১ কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—উপজেলার শ্রীয়াং দক্ষিণ পাড়া এলাকার মৃত মোঃ সেলিম রেজার ছেলে মোঃ নেওয়াজ শরীফ রাসেল ওরপে সবুজ ওরপে বাবু (৩৭)।
র্যাব জানায়, আজ থেকে কয়েক বছর পূর্বে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়শই রাস্তায় সাধারণ মানুষ ডাকাতের কবলে পড়তো এবং এতে করে সাধারণ মানুষের জান ও মালের বেশ ক্ষয়-ক্ষতি হতো। আজ থেকে প্রায় ১৭ বছর পূর্বে ৬ জানুয়ারি ২০০৭ শনিবার প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার একটি রাতে আসামী শরীফ রাসেলসহ আরো কয়েকজন শ্রীয়াং এলাকার বদির পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলো। এমন সময় লাকসাম উপজেলার শ্রীয়াং বাজারের দোকান বন্ধ করে কাচাঁমাল ব্যবসায়ী মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের মনিন্দ দেবনাথ’র ছেলে উত্তম দেবনাথ ও পরীক্ষিত দেবনাথ এবং পান ব্যবসায়ী লাকসাম উপজেলার জগৎপুর গ্রামের সামছুল হকের ছেলে বাচ্চু মিয়া বাড়ি ফিরছিলেন। তারা বদির পুকুর পাড় এলাকায় এসে পৌঁছালে আকস্মিকভাবে জঙ্গল থেকে আসামী রাসেল ও তার সহযোগীরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং যার যা কিছু আছে সব কিছু দিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দ্বারা ভয়ভীতি দেখায়। তারা টাকা-পয়সা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামী রাসেল ও তার সহযোগীরা তাদের অনবরত কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা বাধ্য হয়ে আসামীদের দিয়ে দেয়। হঠাৎ ভিকটিম উত্তম দেবনাথ আসামী রাসেল ও তার সহযোগীদের চিনতে পেরেছে এবং পরেরদিন স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের নিকট তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করবে বলে চিৎকার করে উঠে। যেহেতু ব্যবসায়ীরা আসামীদের চিনে ফেলেছে তাই আসামী রাসেল ও তার সহযোগীরা তাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তীতে আসামীরা ব্যবসায়ীদের পাশবর্তী একটি মাঠে নিয়ে চাপাতি ও ছোরা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এই ঘটনায় ভিকটিম বাচ্চু মিয়ার ভাই কবির হোসেন ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায় খুনসহ ডাকাতির একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনার ১১ বছর পর ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ, আদালতের বিচারক নুর নাহার বেগম শিউলী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। যার মধ্যে রাসেল অন্যতম।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন—লাকসাম শ্রীয়াং এলাকার সেলিমের ছেলে মো. রাসেল, আব্দুল কাদের এর ছেলে আব্দুর রহমান, ইয়াকুব আলীর ছেলে শহীদুল্লাহ, আব্দুল মান্নানের ছেলে ফারুক হোসেন ও মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে স্বপন। দন্ডপ্রাপ্ত ৫ জন আসামীর মধ্যে আব্দুর রহমান, শহীদুল্লাহ, ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। অপর আসামী স্বপন পলাতক রয়েছে।
১৭ বছর পর গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।