
নুরুজ্জামান লাবু
একটা পক্ষ, এর মধ্যে আমাদের কয়েকজন সাংবাদিক ভাই-ব্রাদারও আছেন, তারা বলার চেষ্টা করছেন, ইনিয়ে-বিনিয়ে, মামুনুল হক ইস্যুতে তো লিখে ফাটিয়ে দিয়েছেন, কর্পোরেট এমডির বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন?
তাদের বলছি, মামুনুল হকের সঙ্গে কর্পোরেট এমডির সঙ্গে মামুনুল হকের তুলনা কইরেন না। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তো এমনিতেই ধর্মকর্ম এবং ফতোয়াবাজি করে না। তাদের বাটপারি বা প্রতারণাটা অন্যভাবে, সাধারণ মানুষরে ঠকানোর ব্যবসা। ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে নয়। আর এমনিতেই এই এমডির নারী কেলেঙ্কারী নিয়ে আগেও মামলা হয়েছিল, একজনকে হত্যার দায়ে।
তো তারা, যারা ধর্মীয় রীতিনীতি কম মানেন, তারা ধর্মীয় ভাষায় কবীরা গুণাহ বা জেনা করে হর-হামেশাই। কিন্তু মামুনুল হক ছিলেন ধর্মের লেবাসধারী, সারাদিন ধর্মের নামে ফতোয়া দিয়ে বেড়াতেন, এইসব কর্মকান্ড, যা তিনি করেছেন, সেসবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিধিনিষেধের ধর্মীয় জ্ঞান দিতেন, তার বেলায় কোনওভাবেই মানা যায় না।
ফলে মামুনুল হক এবং কর্পোরেট এমডির বিষয় দুটি আলাদা।
এবার আসি কর্পোরেট এমডির নিউজ প্রসঙ্গ নিয়ে। তারা দেশের সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান, তাদের বিজ্ঞাপনের টাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান চলে, তাদের নিজেদের পাঁচটি মিডিয়া আছে, সো তাদের বিরুদ্ধে যে নিউজ চাইলেই ছাপা হবে না তা সহজেই অনুমেয়। তারপরও আমরা যারা নিউজ করেছি, যারা করছেন, সামাজিক মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন এবং সর্বোপরি পুলিশ যে নাম উল্লেখ করে মামলা নিয়েছে তাও বা কম কিসে?
ইনিয়ে-বিনিয়ে তুলনা বাদ দেন। অমুকের বেলায় লিখেছেন, এর বেলায় এখন লিখেন টাইপ অবান্তর প্রশ্ন করবেন না। দুই-একজন সাংবাদিক সহকর্মীকে আমি যখন বললাম, আমি ব্যর্থ, আপনি একটা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেন, তখন তারা উত্তর দিলেন, আই এম নট ইন্টারেস্টেড বা আমি অন্য বিট করি।
হা হা হা.. হাসি পায়।
তবে এটা সত্য, স্বাধীন গণমাধ্যম সূচকে পিছিয়ে থাকার জন্য শুধু রাষ্ট্রই দায়ী না, গণমাধ্যমের ব্যবসায়ীক স্বার্থও দায়ী।
লেখক গণমাধ্যমকর্মী