ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

লাকসামে নারী প্যাথলজি সহকারীকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা, মামলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

author
Reporter

প্রকাশিত : Mar 23, 2026 ইং 221 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার লাকসাম উপজলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীর বিরুদ্ধ একই উপজলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের প্যাথলজি সহকারীকে (২০) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযাগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই মামলা দায়েরের ১৭ দিন পর গত শনিবার (৭ নভেম্বর) জলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নারী ও শিশু সহায়তা সেলে মামলার নথি পৌঁছেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু সহায়তা সেলের পরিদর্শক পলি রানী বর্দ্ধন। তিনি এই মামলার বাদী ও বিবাদীক আগামী ২০ ডিসেম্বর তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নাটিশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার বাদীনি ও কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত দায়েরকত মামলার অভিযাগ সূত্র জানা যায়, লাকসাম উপজলা সদরের কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা গ্রামের বাসিন্দা মামলার বাদীনি লাকসাম আধুনিক হাসপাতাল সহকারী নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলন। ওই হাসপাতালের মুক্তা নামের এক নার্স বাদীনির বান্ধবী ছিল। লাকসাম উপজলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলী নার্স মুক্তাকে বিয়ে করেন। ডা. আবদুল আলীর সাথে চাকুরীগত কারণে বাদীনির পরিচয় হয়। এরপর থেকে ডা. আবদুল আলী বাদীনিকে সরকারি হাসপাতালের নার্স হিসেবে চাকুরী পাইয়ে দেবেন বলে প্রলাভন দিয়ে আসছিলেন। 

মামলায় বলা হয়, ডা. আবদুল আলী মাঝে মাঝে বাদীনির বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাদীনিকে কুপ্রস্তাব দেন। বাদীনি তা প্রত্যাখান করায় ডা. আবদুল আলী ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী মুক্তার নিকট বাদীনির বিভিন্ন ছবি আছে বলে জানান এবং এসব ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন বলে বাদীনিকে হুমকি দেন। গত ১৯ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ডা. আবদুল আলী বাদীনির বাড়িতে যান। এসময় ঘরের মধ্যে একা পেয়ে ডা. আলী বাদীনিক ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তার চিৎকার লোকজন ছুটে আসতে থাকলে ডা. আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে মোটর সাইকলেযোগে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে ডা. আবদুল আলীর বিরুদ্ধ মামলা (৮২৬/২০) করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা সেলকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়। মামলার বাদীনি অভিযাগ করে বলেন, ‘মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বিবাদী ও তার লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি পারিবারিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ 

কুমিল্লা জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা সেলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক পলি রানী বর্দ্ধন জানান, ‘শনিবার (৭ নভম্বর) আদালতের আদেশসহ মামলার নথি পেয়েছি। বাদী ও বিবাদীক আগামী ২০ ডিসেম্বর হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে মামলার বিবাদী লাকসাম উপজলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীর মোবাইল ফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘মামলার বিষয়টি জানা নেই। তবে আদালতের আদেশ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়েন-


নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS